ঢাকাশনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস ঐতিহ্য
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. রাজনীতি
  10. লাইফ স্টাইল
  11. শিক্ষাঙ্গন
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চকরিয়া শেভরন হাসপাতালে গর্ভবতী নারীর মৃত্যু, অনুমোদন ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো. আবদুল্লাহ (আল-মামুন):

কক্সবাজারের চকরিয়া হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত চকরিয়া শেভরন হাসপাতাল নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা উপযুক্ত লাইসেন্স না থাকার অভিযোগের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। হাসপাতালে নিয়মিত আবাসিক চিকিৎসক নেই এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নার্সও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতি নিয়েও এর আগে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ ২৮ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ওই হাসপাতালে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সিজার-পরবর্তী সময়ে রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ যথাযথভাবে করা হয়নি। ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্বশীল চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। চিকিৎসা-নথি, চিকিৎসকদের দায়িত্বের বিবরণ, প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সরকারি লাইসেন্স ও অনুমোদনের বিষয়ে যাচাই করে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো উপযুক্ত লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—অনুমোদনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করে কীভাবে এতদিন একটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করে আসছে?

অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা ডা. নুরুল কবিরের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর হাসপাতালটিতে গিয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। হাসপাতালটির লাইসেন্স ও অনুমোদন, চিকিৎসক-নার্সদের যোগ্যতা ও নিবন্ধন, ডিউটি রোস্টার, রোগীর চিকিৎসা-নথি এবং মৃত্যুর কারণ যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

তাঁদের প্রশ্ন, একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

চিকিৎসার নামে কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকলে তা বন্ধ করা এবং রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন—উভয় ক্ষেত্রেই এখন প্রশাসনিক তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কারণ প্রশ্নটি শুধু একটি পরিবারের নয়; প্রশ্নটি চকরিয়ার মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার নিয়ে।