ঢাকারবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস ঐতিহ্য
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. রাজনীতি
  10. লাইফ স্টাইল
  11. শিক্ষাঙ্গন
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গেট ভেঙে ব্যাংকের সামনে অবস্থান, টাকা ফেরতের দাবিতে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের আমানত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে হিসাবে কাঙ্ক্ষিত অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শত শত গ্রাহক। একপর্যায়ে ব্যাংকে প্রবেশের পথের শ্রীনগর প্লাজার কাচের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগের মাধ্যমে টাকা জমা রাখার পর তাঁরা আমানত উত্তোলন করতে গিয়ে হিসাবে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে ব্যাংকটির সামনে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

গ্রাহকদের ভাষ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। তাঁদের দাবি, যেসব গ্রাহক ক্যাশ কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজনের হিসাব পরীক্ষা করে প্রত্যাশিত অর্থ পাওয়া যায়নি। এদিকে ওই কর্মকর্তা দুই দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলেও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই দিন শত শত গ্রাহক ব্যাংকটির সামনে জড়ো হন। টাকা ফেরত ও ঘটনার সমাধানের দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। গ্রাহকদের এই বিক্ষোভ রাত ১০টা পর্যন্ত চলার পর ব্যাংকের একজন প্রিন্সিপাল অফিসার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে অভিযোগকারী গ্রাহকদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন নেওয়া হবে এবং বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসের পর ওই রাতের মতো গ্রাহকেরা বাড়ি ফিরে যান বলে জানা গেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই আবার শত শত গ্রাহক ব্যাংকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

ব্যাংকটিতে প্রবেশের জন্য শ্রীনগর প্লাজার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তবে সকাল থেকে প্লাজার প্রবেশপথের গেট বন্ধ থাকায় গ্রাহকেরা ব্যাংকের সামনে যেতে পারছিলেন না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গ্রাহকদের একটি অংশ প্লাজার কাচের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাংকের কাছাকাছি গেটের সামনে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের জন্য একটি আবেদনপত্রের নমুনা দেওয়া হয়। ওই আবেদনপত্রে গ্রাহকদের ব্যক্তিগতভাবে ক্যাশ কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগের কাছে টাকা জমা রাখা এবং তাঁর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে বলা হয়েছে বলে গ্রাহকেরা জানান।

তবে এই ভাষায় আবেদন করতে আপত্তি জানান বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একটি অংশ। তাঁদের দাবি, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো কর্মকর্তার কাছে নয়, অগ্রণী ব্যাংকেই টাকা জমা দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারী গ্রাহকদের কয়েকজন বলেন, “আমরা শরিফুজ্জামানকে চিনি না, আমরা অগ্রণী ব্যাংককে চিনি। আমরা ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। তাই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে টাকা রেখেছি—এমন বক্তব্য দিয়ে আবেদন করতে আমরা রাজি নই।”

গ্রাহকদের অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে গ্রাহকদের অর্থের প্রকৃত অবস্থা, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।