মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন পর পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী জিয়া খাল। খালটিতে এখন পানির প্রবাহ থাকায় স্থানীয় মানুষ ও জেলেরা মাছ ধরছেন। পাশাপাশি কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে খালের পানি ব্যবহারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
গত ২৭ এপ্রিল শার্শার উলাশীতে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ জিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। খননকাজ শেষ হওয়ার পর চলতি বর্ষা মৌসুমে খালটিতে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখননের ফলে শার্শা উপজেলার সোনামুখি, কামান্দার ও বনমান্দারসহ ২২টি ছোট-বড় বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হচ্ছে। এতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। ফলে সোনামুখি ও বনমান্দার বিলের কয়েক হাজার একর জমিতে কৃষকেরা আমন ধান চাষ করতে পারছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উলাশী জিয়া খালে এখন পানির স্রোত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবকদের কেউ গোসল করছেন, কেউ সাঁতার কাটছেন আবার কেউ মাছ ধরছেন। খালে পানি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয়রা জানান, জিয়া খালের সঙ্গে বেতনা নদীর সংযোগ ছিল। একসময় বেতনা নদীর পানি এই খালে প্রবাহিত হতো। তবে নদীটি বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে আছে। বেতনা নদী দখলমুক্ত করে খালের সঙ্গে পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে খাল পুনঃখননের সুফল আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত খালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন খনন না করায় উলাশী জিয়া খাল নাব্যতা হারিয়েছিল। পুনঃখননের ফলে সোনামুখি, বনমান্দারসহ বিভিন্ন বিলে বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতা কমেছে। এতে প্রান্তিক কৃষকেরা আমন ধান চাষের সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ২০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বেতনা নদীর দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ক্ষেত্রে উলাশী জিয়া খাল আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

