দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরই মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফেরদৌস হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ফেরদৌস হোসেন উপজেলার বোরাই গ্রামের বাসিন্দা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৫ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় কয়েকজন রোগীকে মেঝেতে বসে ও গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের ভিড় রয়েছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সরবরাহে ডায়রিয়ার স্যালাইন থাকলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে। ফলে এসব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
নিহত ফেরদৌস হোসেনের স্বজনরা জানান, বাড়িতে কয়েকবার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রোববার দুপুরে তাঁকে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “হঠাৎ করে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। এ সময়ে সবাইকে বাইরের তৈরি খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সরবরাহে থাকা প্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে সরবরাহে নেই—এমন কিছু ওষুধ রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ সময়ে বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বাইরের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

