মো. ইলিয়াছ খান, সালথা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ফরিদপুর ও নগরকান্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাংরাইল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বকুল মোল্যা ও মিশরু মিয়া একসময় একই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা পৃথক অবস্থানে রয়েছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। পাশাপাশি বকুল মোল্যা ও মিশরু মিয়ার মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার মিশরু মিয়ার জমি টিলার দিয়ে চাষ করতে গেলে বকুল মোল্যার লোকজন বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি জমির ফসলও নষ্ট হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বকুল মোল্যা ও মিশরু মিয়া এলাকায় না থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

