এমতেয়াজ পাটওয়ারী ফরহাদ, চাঁদপুর:
চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কোয়া চাঁদপুর গ্রামের কালাগাজী বাড়িতে মর্মান্তিক এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসএসসি পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার জেরে নাদিয়া আক্তার (১৮) নামের এক তরুণী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নাদিয়া আক্তার কচুয়া উপজেলার তুলপাই গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে পাশের চান্দিনা উপজেলার কৈলান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের (২০২৬) এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। নাদিয়া তার মা ও ছোট বোনকে নিয়ে নানাবাড়িতেই বসবাস করত।
নিহতের মা নূরুন্নাহার বেগম জানান, কচুয়া টাওয়ার ও ডায়াগনস্টিক হসপিটালে আয়া পদে চাকরি করেন। ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থল থেকে ডিউটি শেষ করে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে এসে মেয়ের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ জাগে। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাদিয়ার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী ও দুই মেয়ের কোনো খোঁজখবর নিতেন না এবং তাদের ভরণপোষণও দিতেন না। বাধ্য হয়ে মা নূরুন্নাহার বেগম হাসপাতালে চাকরি করে দুই মেয়েকে লালন-পালন করছিলেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নাদিয়া তিনটি বিষয়ে ফেল করে। মা নূরুন্নাহার বেগম দাবি করেন, পরীক্ষায় ফেল করার পরও তিনি মেয়েকে একটুও বকাঝকা করেননি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার ঠিক আগমুহূর্তে নাদিয়া তার বাবা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

