হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে জমির মালিককে না জানিয়ে কৃষিজমি থেকে বেকু দিয়ে লাখ লাখ টাকার মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চর কাদিরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আমির হোসেনের প্রায় ৪০ শতক কৃষিজমি রয়েছে ওই এলাকায়। জমির মালিকের বাড়ি কমলনগরের হাজিরহাট ইউনিয়নে হওয়ায় এবং বয়স বেশি হওয়ায় তিনি নিয়মিত জমিটি দেখাশোনা করতে পারেন না। এ সুযোগে স্থানীয় শাহ আলমের ছেলে মো. আক্তার হোসেন ও আরিফ হোসেন দুই ভাই মিলে আমির হোসেনকে না জানিয়ে বেকু দিয়ে তার জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আমির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাড়ি হাজিরহাট ইউনিয়নে। জমিটি চর কাদিরা ইউনিয়নে হওয়ায় দূরত্বের কারণে সবসময় সেখানে গিয়ে দেখাশোনা করতে পারি না। আমি বৃদ্ধ মানুষ। তাই স্থানীয়দের কাছে জমিটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিলাম। কয়েকদিন আগে জানতে পারি, স্থানীয় আক্তার হোসেন ও তার ভাই আরিফ আমার জমি থেকে বেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করেছেন। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
আমির হোসেনের ছেলে সজিব ও হৃদয় বলেন, “আমরা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় দিনমজুরের কাজ করি। এ কারণে নিয়মিত জমির কাছে আসা সম্ভব হয়নি। আমাদের বাবাও বৃদ্ধ হওয়ায় নিজে এসে জমি দেখাশোনা করতে পারেন না। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে দেখি, আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে পুকুরের মতো করে রাখা হয়েছে। আশপাশের জমিগুলোতে কৃষকরা আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় সেখানে আমন ধান রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমি দেখেছি আক্তার ও আরিফ মিলে ওই জমি থেকে বেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। মাটি কেটে ব্রিকফিল্ডে নেওয়া হয়েছে বলেও দেখেছি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ফোনে বলেন, “আমরা মাটি কিনেছি। তবে এখনো টাকা দেওয়া হয়নি।” পরে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি বসে সমাধান করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ায় একদিকে যেমন তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে জমির স্বাভাবিক কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

