পরকালে সফল হতে মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ ও তার দেখানো পথ অনুসরণ করাও জরুরি। পবিত্র কোরআনে খোদ মহান রব ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।
আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত : ৩১)।
এ জন্য বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে বেঁচে থাকতে দোয়ার কথা এসেছে।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন- ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাই অলসতা, অতিরিক্ত বার্ধক্য, গুনাহ আর ঋণ থেকে, আর কবরের ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে। আর জাহান্নামের ফিতনা এবং এর আযাব থেকে, আর ধনবান হওয়ার পরীক্ষার মন্দ পরিণাম থেকে। আমি আরো আশ্রয় চাই দারিদ্রের অভিশাপ থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাই মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।
ইয়া আল্লাহ! আমার গুনাহ এর দাগগুলো থেকে আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন এবং আমার অন্তরকে সমস্ত গুনাহ এর ময়লা থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে সাফ করার ব্যবস্থা করে থাকেন। আর আমার ও আমার গুনাহগুলোর মধ্যে এতটা দূরত্ব করে দিন, যত দূরত্ব আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯২৮)
এ ছাড়াও ঋণ পরিশোধের বিষয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার জনৈক মুকাতিব (বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে মালিকের সঙ্গে আজাদির চুক্তি করা) গোলাম তাঁর (আলী রা.) কাছে এসে বলল- আমি আমার চুক্তি অনুসারে বিনিময় মূল্য দিতে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন। তখন আলী (রা.) বললেন- তোমাকে এমন কিছু কালিমা আমি শিখিয়ে দেব কি, যেগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছিলেন? তোমার জিম্মায় যদি ছবীর পাহাড় (আরবের বড় একটি পাহাড়) ঋণও থাকে, তবে এতে আল্লাহ তা’আলা তাও আদায় করে দেবেন।
তুমি বলবে-
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
বাংলা : আল্লাহুম্মাক-ফিনি বি-হালালিকা, আন-হারামিকা, ওয়াগনিনি বিফাদলিকা আম্মান-সিওয়াকা।
অর্থ : হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার প্রদত্ত হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দাও। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৬৩)

