আবুজার গিফারী, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৩ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধ এবং দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পদ্মবিলে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল উত্তোলন করা হয়। পরে উদ্ধার করা জালগুলো উপস্থিত সবার সামনে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ মিশকাতুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার মোহাম্মদ মিয়াজান আলী, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতা ও কমান্ডারগণ।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, চায়না দুয়ারী জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এসব জালে মাছের পোনা, ছোট মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মিশকাতুল ইসলাম বলেন, জলাশয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করার সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসার মোহাম্মদ মিয়াজান আলী বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস বলেন, চায়না দুয়ারীসহ ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ জালের কারণে মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ব্যাপকভাবে ধ্বংস হচ্ছে। এসব জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, পদ্মবিলসহ উপজেলার বিভিন্ন বিল, খাল ও জলাশয়ে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমবে এবং দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানান।
মৎস্যসম্পদ রক্ষা, দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

