নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু (৪০) হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের খতিয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন খতিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশরাফ (২৩) ও শহিদের ছেলে সিয়াম (২৪)। সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. আবু হানিফ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালিয়ে আশরাফ ও সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সিয়াম মামলার এজাহারনামীয় আসামি। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই মামলায় শাহাদাত দেওয়ান ওরফে শাওন (২২), তামিম আহমেদ (২১), বিকাশ (২৩) ও জিহাদুল ইসলাম ওরফে মৃদুলকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি মো. আবু হানিফ বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে তার মরদেহ কালীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলা ও পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে বাড়ির কাছের কালীগঙ্গা নদীর তীরে কয়েকজন তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এর আগে ওই দিন বিকেলে খতিয়া জাগ্রত সবুজ সংঘ ও পাতিলঝাপ যুব সংঘের মধ্যে ফুটবল খেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মো. বিপ্লব হোসেন বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরদিন সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের সহায়তায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পুলিশ কালীগঙ্গা নদীতে অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

