ঢাকাশুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • অন্যান্য
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. রাজনীতি
  6. শিক্ষাঙ্গন
  7. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সালথায় ২৮৫ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, কমেছে জনদুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!



মো. ইলিয়াছ খান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমাতে ব্যাপকভাবে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৮৫টি এইচবিবি ও সোলিং সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সড়ক উন্নয়নের ফলে গ্রামের সঙ্গে হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।

এ উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। তিনি ২০২৬ সালের ৩ মার্চ সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এবং দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত সড়কগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সড়কগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

সালথা উপজেলায় মোট আটটি ইউনিয়ন রয়েছে। এগুলো হলো—রামকান্তপুর, যদুনন্দী, ভাওয়াল, গট্টি, আটঘর, মাঝারদিয়া, বল্লভদী ও সোনাপুর। প্রায় দুই লাখ মানুষের এ উপজেলায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সরাসরি সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কমেছে বর্ষাকালের দুর্ভোগ

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো—সব ক্ষেত্রেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হতো।

বিশেষ করে বর্ষাকালে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ত। বর্তমানে ২৮৫টি সড়কে এইচবিবি ও সোলিংয়ের কাজ হওয়ায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে।

এখন গ্রামের সঙ্গে হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কৃষকেরা তুলনামূলক কম সময় ও খরচে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও হয়েছে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়; এটি একটি এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং মানুষের জীবনমানও উন্নত হয়।

উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় এ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সড়ক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন,
“দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চেষ্টা করেছি উপজেলার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সড়ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নকাজের সুফল যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।