চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাকারা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বর্গাচাষির বেগুনখেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ৯ শতক জমিটি নিয়ে মালিকানা ও দখলের বিরোধের বিষয়টি বর্তমানে কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক আরিফের অভিযোগ, মৃত সৈয়দ নূরের ছেলে রশিদ আহমদ কয়েকজন সহযোগী ও বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে তাঁর বেগুনগাছ তছনছ করে দেন। এতে প্রায় ৪০–৪৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরিফ জানান, ফজল করিমের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে ধারদেনা করে ওই জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। ফসল ভালো হওয়ার আশা থাকলেও গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি হতদরিদ্র মানুষ। ধারদেনা করে চাষাবাদ করি। এই চাষের আয় দিয়েই পরিবার চলে। আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনাস্থলে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির হাতে অস্ত্র ছিল। তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ভয়ে প্রতিরোধ করতে পারেননি তাঁরা। তবে অস্ত্রধারীদের পরিচয় ও অস্ত্রের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জমিটির মালিকানা নিজের দাবি করে ফজল করিম বলেন, জমিটি ওয়ারিশসূত্রে তাঁর এবং প্রায় দুই বছর ধরে তিনি দখলে আছেন। রশিদ আহমদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আরিফকে জমিটি বর্গা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, “বিষয়টি আমার কাছে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী রোববার (৩০ আগস্ট) উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে ন্যায়সঙ্গতভাবে নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
এদিকে, বেগুনখেত নষ্ট করার অভিযোগের বিষয়ে রশিদ আহমদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির কাগজপত্র ও দখল যাচাই করে প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ফসল নষ্টের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

