ঢাকাবুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইনশৃঙ্খলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. খেলাধেুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. প্রযুক্তি
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি
  12. লাইফস্টাইল
  13. শিক্ষাঙ্গণ
  14. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ রাতে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি

অনলাইন সংস্করণ
আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অন্ধকার রাতের আকাশে হঠাৎ ছুটে চলা আলোর রেখা বরাবরই মানুষের কৌতূহল ও বিস্ময় জাগায়। সেই নৈসর্গিক দৃশ্যেরই অন্যতম আকর্ষণ পারসেইড উল্কাবৃষ্টি। বুধবার রাতে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যেতে পারে এই উল্কাবৃষ্টির চমৎকার দৃশ্য।

প্রতিবছর আগস্টে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখা গেলেও এ বছর তুলনামূলক ভালোভাবে এটি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ, আজ অমাবস্যা থাকায় রাতের আকাশে চাঁদের আলো থাকবে না। ফলে আকাশ অপেক্ষাকৃত অন্ধকার থাকায় উল্কাগুলো আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে।

কখন দেখা যাবে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি?
আজ রাত থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে। আকাশ পরিষ্কার ও চারপাশের পরিবেশ যথেষ্ট অন্ধকার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে।

উত্তর গোলার্ধ থেকে মধ্য-দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। আগস্ট মাসে রাতের আকাশে পারসেয়াস নক্ষত্রমণ্ডলকে কেন্দ্র করে এই উল্কাবৃষ্টি দৃশ্যমান হয়।

পারসেয়াস নক্ষত্রমণ্ডল খুঁজে পেতে সমস্যা হলে ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডলের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। উত্তর আকাশে ইংরেজি ‘ডব্লিউ’ অক্ষরের মতো দেখতে ক্যাসিওপিয়া খুঁজে পেলে তার কাছাকাছিই পারসেয়াস নক্ষত্রমণ্ডল পাওয়া যাবে।

খালি চোখেই দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি
পারসেইড দেখার জন্য প্রয়োজন সঠিক সময় ও ধৈর্য। মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি।

খোলা জায়গায় চাদর বিছিয়ে বা হেলান দেওয়া চেয়ারে আরাম করে শুয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। অন্ধকারের সঙ্গে চোখকে মানিয়ে নিতে অন্তত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া ভালো।

উল্কাবৃষ্টি দেখার সময় টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ উল্কা খুব দ্রুত আকাশ অতিক্রম করে এবং খালি চোখে তুলনামূলক বড় অংশের আকাশ একসঙ্গে দেখা যায়। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের পর্দার দিকে তাকানো এড়িয়ে চলা উচিত। ফোনের উজ্জ্বল আলো রাতের অন্ধকারে চোখের অভিযোজন নষ্ট করতে পারে।

‘ছুটন্ত তারা’ আসলে কী?
আকাশে দেখা এই ‘ছুটন্ত তারা’ আসলে কোনো তারা নয়। এগুলো মেটিওরয়েড বা মহাকাশে থাকা ছোট পাথর ও ধূলিকণার টুকরো। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড গতির কারণে এগুলো উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে এবং তখনই আকাশে আলোর রেখা দেখা যায়।

আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পারসেইড উল্কার গতি ঘণ্টায় প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ধূমকেতু বা গ্রহাণুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার বলয়ের মধ্য দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করার সময়ই মূলত উল্কাবৃষ্টি সৃষ্টি হয়।

পারসেইডের পেছনে রয়েছে ‘সুইফট-টার্টল’ ধূমকেতু
পারসেইড উল্কাবৃষ্টির উৎস হলো ১০৯পি/সুইফট-টার্টল ধূমকেতু। এই ধূমকেতু সর্বশেষ ১৯৯২ সালে সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অংশে এসেছিল। ২১২৬ সালের আগে এটি আবার সেখানে ফিরে আসবে না।

ধূমকেতুটির নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রের ব্যাস প্রায় ২৬ কিলোমিটার। ধূমকেতুটি সৌরজগতের ভেতর দিয়ে বারবার অতিক্রম করার সময় বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও কণা রেখে যায়। পৃথিবী প্রতিবছর আগস্টে সেই ধূলিকণার অঞ্চল অতিক্রম করলেই পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়।

দেখা মিলতে পারে উজ্জ্বল ‘ফায়ারবলের’
পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সময় মাঝেমধ্যে অত্যন্ত উজ্জ্বল উল্কা বা ‘ফায়ারবল’ও দেখা যায়। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির ফায়ারবল রিপোর্ট সমন্বয়কারী রবার্ট লুনসফোর্ডের মতে, ধূমকেতু থেকে যত বেশি কণা নির্গত হয়, উজ্জ্বল ফায়ারবল তৈরির সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

পারসেইড উল্কাবৃষ্টি অন্যান্য অনেক উল্কাবৃষ্টির তুলনায় বেশি জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ এর সময়কাল। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে এটি দেখা যায় বলে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ করা তুলনামূলক আরামদায়ক। অন্যদিকে অনেক উল্কাবৃষ্টি শীতকালে হওয়ায় ঠান্ডার কারণে মানুষ সেগুলো দেখার সুযোগ কম পায়।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

Share this news as a Photo Card

১৫ আগস্ট ২০২৬

ঋদ্ধস্বর আবৃত্তি একাডেমির দেড় দশক পূর্তি উদযাপন

www.ajkertarunkanth.com |
নিউজ লিংক কমেন্টে

Share with