কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে এক নারী ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোসা. তাছলিমা বেগম (৩৬) নামে এক নারী।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—বুড়িচং উপজেলার শাহদৌলতপুর গ্রামের সোলেমান ভূইয়া (২৫) এবং চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এলাকার বিল্লাল হোসেন (৩৫)। অভিযোগকারী তাছলিমা বেগম একই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের অন্যতম সাক্ষী।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, তাছলিমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদকে (২২) বুড়িচং থানাধীন শাহদৌলতপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ভাঙাড়ির দোকানে কৌশলে ডেকে নিয়ে পেট্রোলজাতীয় তরল পদার্থ দিয়ে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলাটির নম্বর সিআর মামলা নং-৩৫০/২৬ (বুড়িচং)। গত ২৮ জুন আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লায় তদন্তাধীন রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শাহদৌলতপুর গ্রামে তাঁর বসতবাড়ির সামনের রাস্তায় অভিযুক্ত সোলেমান ভূইয়া ও বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি এসে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তাছলিমা বেগম।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, মামলা তুলে না নিলে মৃত তানভীরের মতো তাঁর অপর সন্তান ও স্বামীকেও প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে সোলেমান ও বিল্লাল তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাঁর স্বামীসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন তাছলিমা বেগম।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

