ঢাকাFriday , 14 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. খেলাধেুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. প্রযুক্তি
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. শিক্ষাঙ্গণ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অটোরিকশার চার্জিংয়ে বছরে ৩ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, রাজস্ব ফাঁকি ৪ হাজার কোটি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এসব অটোরিকশার চার্জিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও রাজস্ব আদায় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা রয়েছে। এসব যানবাহন চার্জ দিতে বছরে প্রায় ৩ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণ এই বিদ্যুতের একটি বড় অংশ বৈধ মিটারের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয় না। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপের পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ অটোরিকশা রাখা ও চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্যারেজগুলোতে বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

অটোরিকশার পেছনে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ

লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতা নেই—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ নানা কারণে বিদ্যুৎবিভ্রাট হতে পারে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও এখন আলোচনায় এসেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করছে। প্রতিটি অটোরিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। ব্যাটারি চার্জ দিতে ঘণ্টায় প্রায় ১১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রায় ৮ ঘণ্টা চার্জে রাখলে একটি অটোরিকশায় খরচ হয় আনুমানিক ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ।

এই বিপুল বিদ্যুতের কত অংশ বৈধভাবে মিটার ব্যবহার করে নেওয়া হচ্ছে, আর কত অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে—তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন।

খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ

অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ মিটারে ওঠে না। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধ সংযোগের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত হিসাব যেমন পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি সরকারও হারাচ্ছে সম্ভাব্য রাজস্ব। অন্যদিকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ বৈধ গ্রাহকদের ওপরও পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীতে ২০ লাখ অটোরিকশা

সিপিডির এক গবেষণায় রাজধানীজুড়ে প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশার হিসাব পাওয়া গেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অটোরিকশা একবার চার্জ দেওয়ার জন্য গড়ে ১০০ টাকা নেয় গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ।

এই হিসাবে শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন চার্জিং বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

সারা দেশের অটোরিকশা, গ্যারেজ, পার্কিং ও চার্জিংয়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় এই খাতের লেনদেনের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা ও চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

অটোরিকশার চার্জিং ব্যবসার পাশাপাশি নিবন্ধন, লাইসেন্স, কর ও অন্যান্য ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। ফলে বিশাল এই পরিবহন খাত থেকে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, অটোরিকশা খাত থেকে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে বিদ্যুৎ খাতও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তবে রাজস্ব ক্ষতি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের এসব পরিসংখ্যানের পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ জরুরি।

সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হলে উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হবে।

তিনি মনে করেন, অটোরিকশা খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে একক কোনো সংস্থার পক্ষে কাজ করা কঠিন। বিদ্যুৎ, সড়ক পরিবহন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গ্যারেজে অভিযানের পরামর্শ

অবৈধ লেনদেন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করে চার্জিং গ্যারেজগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশাগুলো অবৈধ হলেও বাস্তবে তারা বিভিন্ন জায়গায় অর্থ প্রদান করেই সড়কে চলাচল করছে। যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক লেনদেন জড়িয়ে আছে, সেখানে নিয়ন্ত্রণে কৌশলী হতে হবে। তবে নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।

সমাধান কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া নয়; বরং পুরো খাতকে একটি বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনা জরুরি।

এ জন্য অটোরিকশার পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, চার্জিং গ্যারেজের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, প্রতিটি গ্যারেজে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৃথক মিটার স্থাপন এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অটোরিকশার সংখ্যা, চলাচলের রুট ও চার্জিং অবকাঠামোর মধ্যে সমন্বয় করা গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো এবং সরকারের রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

শেষ কথা

৬০ লাখ অটোরিকশার চার্জিংকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল এক অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। একদিকে বছরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ সংযোগ ও অনিবন্ধিত লেনদেনের। ফলে বিদ্যুৎ খাতের ক্ষতির পাশাপাশি রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

এখন প্রয়োজন অটোরিকশা খাতকে নিষিদ্ধ না করে নিবন্ধন, বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা, মিটারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং স্বচ্ছ রাজস্ব কাঠামোর আওতায় আনা। তাহলেই একদিকে বিদ্যুতের অপচয় ও অবৈধ সংযোগ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card

13 August 2026

বাংলাদেশের প্রথম ইউটিলিটি-গ্রেড গ্রিড-ফর্মিং স্মার্ট স্ট্রিং ইনভার্টার ও

www.ajkertarunkanth.com |
<< বিস্তারিত কমেন্টে >>

Share with