মো. আজিজুল হাকিম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৯টা ৩২ মিনিটে ইউনিটটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ইউনিট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইউনিটটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, এখন থেকে নিয়মিতভাবে এখান থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৫ মে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরও আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়েছিল ইউনিটটি। ২০১৭ সালে চালু হওয়ার পর প্রায় আট বছর সচল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার যান্ত্রিক জটিলতায় এর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট সচল রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায় বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। মোট ২৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এ দুটি ইউনিট থেকে উৎপাদন ১৩০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়। তবে নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিটটির উৎপাদন বারবার ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে, কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন, কয়লা সংরক্ষণ ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার বর্তমান সমস্যাগুলো দূর করতে ইতোমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদিত কয়লার সংরক্ষণ ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

