ঢাকাবুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • অন্যান্য
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. রাজনীতি
  6. শিক্ষাঙ্গন
  7. সারাদেশ

মনপুরায় কিশোরী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!



মো. কামরুল হোসেন সুমন, মনপুরা:

ভোলার মনপুরায় দরিদ্র নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প (ইরেসপো-২য় পর্যায়)-এর আওতায় কিশোরী ও অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার চরফৈউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোরীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের সচেতন করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের পানিসম্পদ ও সেচ ব্যবস্থাপনা শাখার উপাদান মো. রাশেদুল হক, ইরেসপো-বিআরডিবি ঢাকার উপপ্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুস সবুর এবং ভোলা জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক মো. আজাদুর রহমান।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহে আলম লিটন। এ সময় মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমানসহ বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়।

অনুষ্ঠানে চরফৈউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারীসহ শিক্ষক-কর্মচারী, কিশোরী, অভিভাবক, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধান অতিথি কিশোরীদের মধ্যে সঞ্চয় ও প্রণোদনার চেক বিতরণ করেন। চেক গ্রহণ করেন শাহিদা বেগম, সাথী, মুক্তা বেগম ও সামিয়া আক্তারসহ কয়েকজন কিশোরী। এছাড়া অভিভাবকদের হাতে গাছের চারা ও ছাতা তুলে দেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে মেয়েদের নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা হচ্ছে। কোনো কিশোরী ১০০ টাকা সঞ্চয় করলে প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে ২০০ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে কিশোরীরা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ে উৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন পূরণের জন্যও তারা প্রস্তুত হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক কিশোরী ভবিষ্যতে নার্স, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশায় যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

প্রধান অতিথি মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, কিশোরীদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোরী ও অভিভাবক—উভয়কেই সচেতন হতে হবে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন না। ইরেসপো প্রকল্পের মাধ্যমে কিশোরীদের সঞ্চয়ের পাশাপাশি প্রণোদনা দেওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কিশোরীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে কিশোরীরা ভবিষ্যতে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং পরিবার ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে ইরেসপো প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. মোকাম্মেলসহ বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, কিশোরী ও তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।