লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ও ছয়টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)। অভিযানের সময় চোরাকারবারিরা গরুগুলো ফেলে পালিয়ে গেলেও ভারতীয় মোটরসাইকেলটির মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুচলিবাড়ী বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ৮০৩/৪-এস থেকে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কবরস্থান এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করে।
এ সময় ভারত থেকে চোরাইপথে একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল বাংলাদেশে আনার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় বিজিবি। পরে ওই এলাকার কাছ থেকে একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, মোটরসাইকেলটির সঙ্গে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এর প্রকৃত মালিকেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পানবাড়ী ও আঙ্গরপোতা বিওপির বিশেষ টহল দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ডিএএমপি-৪ ও ৪/২-এস থেকে প্রায় ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফরিদের ঘাট ও স্বাধীন বাংলা চত্বর এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয় বিজিবি।
কিছুক্ষণ পর ভারতীয় সীমান্তের দিক থেকে কয়েকজন চোরাকারবারিকে ছয়টি গরু নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ও চ্যালেঞ্জের মুখে চোরাকারবারিরা গরুগুলো ঘটনাস্থলে ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছয়টি ভারতীয় বড় ষাঁড় গরু জব্দ করে।
বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। জব্দ করা মালামালের বিষয়ে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

