সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদরের নিমতলায় আপন ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে প্রতারণা, হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি বিক্রি ও হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সখিনা বেগম নামে এক বিধবা নারী।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) সকালে নিজের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের পাশাপাশি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সখিনা বেগম। এ সময় তিনি ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে সখিনা বেগম অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই মো. স্বপন মিয়া, ভাই মো. বাশার আহম্মেদ ও বাশারের স্ত্রী ফাহমিদা বেগম পরস্পর যোগসাজশে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি অন্যত্র পাওয়ার দিয়ে বিক্রি এবং নগদ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি একজন অসহায় বিধবা নারী। আমার স্বামী নেই। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাই। একদিকে আমার নগদ টাকা ও কেনা সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
সখিনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুর পর ছোট ভাই বাশার আহম্মেদকে ছোটবেলা থেকে কোলে-পিঠে করে লালন-পালন করেছেন। নিজের কাছে রেখে তার পড়াশোনার খরচও বহন করেছেন। পড়াশোনা শেষে বেকার থাকা অবস্থায় বাশার বিভিন্ন কারণে প্রায় ১০-১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে তাকে আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ করেন।
ভাইয়ের প্রতি মায়া থেকে তাকে সহযোগিতা করতে গিয়ে সখিনা বেগম জানান, বাশারের নামে থাকা পৈতৃক সম্পত্তির প্রায় দুই শতক জায়গা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের কথা বলা হলে তিনি নগদ ১০ লাখ টাকা দেন। ওই টাকার বড় একটি অংশ এনজিও, সমিতি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ওই জায়গা ক্রয় করেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে তার ভাই বাশার আহম্মেদ প্রতারণার মাধ্যমে একই জায়গা অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। শুধু তাই নয়, তাকে ও তার ছেলে-মেয়েদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বাইরে থেকে লোকজন এনে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সখিনা বেগম বলেন, “আমি কি সংসার সামলাব, নাকি নিজের সম্পদ রক্ষার জন্য দৌড়াদৌড়ি করব? নিজের ভাইকে বিশ্বাস করে আজ আমি ঋণের বোঝা টানছি। অথচ সেই ভাই-ই আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা এখন আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।”
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
সখিনা বেগম আরও বলেন, পারিবারিক বিষয় হওয়ায় শুরুতে লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে চাননি। তবে নিজের সম্পদ রক্ষা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি তার সম্পদ ফেরত পাওয়া এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

