ঢাকারবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস ঐতিহ্য
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. রাজনীতি
  9. লাইফ স্টাইল
  10. শিক্ষাঙ্গন
  11. সারাদেশ
  12. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্ত ও অনুসন্ধানে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান এবং অভিনেত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রোকেয়া প্রাচীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা যায়।

প্রসিকিউশনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডের আগে সাংবাদিক দম্পতি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ করছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই তথ্যচিত্র প্রকাশের আগেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কিছু ডিজিটাল উপকরণ অন্যদের কাছে চলে যায়।

তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন গুমের ঘটনা অনুসন্ধানের সময় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে একাধিকবার ফোনালাপের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের মধ্যে বিশের বেশি যোগাযোগের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর জিয়াউল আহসানের একজন বিশ্বস্ত সহকারী রোকেয়া প্রাচীর কাছে যান। সে সময় দুটি পেনড্রাইভ হস্তান্তরের ঘটনা তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পেনড্রাইভে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের কিছু উপকরণ ছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম জিয়াউল আহসানের ওই সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনালের এক কর্মকর্তা। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে মামলাটির তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। তবে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ সময়েও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‌্যাবকে তদন্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআই প্রধানকে ওই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয় এবং বর্তমানে তাদের তত্ত্বাবধানেই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ বহুবার পিছিয়েছে।

মামলাটিতে বিভিন্ন সময়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তানভীর রহমান খান।

তানভীর রহমান খান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্তির পর পলাতক রয়েছেন বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অপর কয়েকজন আসামি কারাগারে রয়েছেন।