ঢাকাশনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬
  • অন্যান্য
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. রাজনীতি
  6. শিক্ষাঙ্গন
  7. সারাদেশ
  8. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুগন্ধা সৈকতে সড়ক নির্মাণ, ৪ কর্মকর্তাকে নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!



স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :

কক্সবাজার শহরের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)-এর চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী, সড়ক নির্মাণকাজের প্রকল্প পরিচালক এ এস এম রাশেদুর রহমান এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকো।

নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২৭ আগস্ট ই-মেইল ও ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার দেশের অমূল্য সম্পদ। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এই এলাকার বালিয়াড়ি দখল বা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সুগন্ধা সৈকত থেকে কলাতলীর দিকে চার লেনের স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে দক্ষিণ দিকে কলাতলী পর্যন্ত ১ দশমিক ২ কিলোমিটার ‘শহর রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ২৮ মিটার। প্রকল্পে জাইকা ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে সায়মান বিচ রিসোর্ট থেকে দক্ষিণ দিকে বেলি হ্যাচারি পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)।

তবে প্রকল্প নিয়ে পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই সুগন্ধা সৈকতে শহর রক্ষা বাঁধের কাজ হচ্ছে। প্রকল্পটি আগেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে জরিপ, নকশা ও গবেষণার কাজও করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশের তেমন ক্ষতি হবে না।

এদিকে সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। পাশাপাশি প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সড়ক নির্মাণের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করে প্রকল্প পরিচালক ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

অন্যদিকে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসিএ এলাকায় সড়ক নির্মাণ কেন বন্ধ করা হবে না—এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। দুই সচিবসহ আটজন সরকারি কর্মকর্তাকে পাঠানো ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ বেলাকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ২৮ আগস্ট কক্সবাজার পৌরসভার ভবন চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক কয়েকটি সংগঠন।

‘ইকো-ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট কক্সবাজার’-এর ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশের মুখপাত্র মো. জাবেদ নূর শান্ত, ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ারের সভাপতি মো. কামরুল হাসান, ইয়ুথ অ্যালায়েন্স ফর সাসটেইনেবল ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী প্রধান কায়সার হামিদ, জলবায়ু যোদ্ধা ও ম্যাজিক ইনিশিয়েটিভের সভাপতি জিমরান মো. সায়েক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কক্সবাজারের সাবেক আহ্বায়ক এস এস সাগরসহ অনেকে।

সমাবেশে জাবেদ নূর শান্ত বলেন, “কক্সবাজারের উন্নয়ন আমরাও চাই। কিন্তু প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট কিংবা দখল করে নয়।” তিনি সৈকতের পরিবেশ রক্ষা এবং শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে জরুরি ভিত্তিতে সুগন্ধা সড়ক নির্মাণকাজ স্থগিত এবং প্রকল্পের নকশা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এদিকে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির অভিযোগে প্রকল্পের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পরিবেশ সংগঠন ‘গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্স’।

সংগঠনের সভাপতি ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান বলেন, “হাজারো রাস্তা বানানো সম্ভব, কিন্তু বালিয়াড়ি বানানো সম্ভব নয়।” তিনি অবিলম্বে বালিয়াড়ি ভরাটের কাজ বন্ধ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও কক্সবাজারের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, কক্সবাজারের প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই কাম্য নয়।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব, আদালতের নির্দেশনা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং প্রকল্প অনুমোদনের সব নথি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বালিয়াড়ি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।