সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গফুর ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জোহরের নামাজের পর জাফরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি ঘটে।
আলহাজ্ব আব্দুল গফুর ১৯৫৫ সালে তারালী ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে কালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস করেন। একই বছর ঘোনা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে জাফরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৮৩ সালে তিনি প্রথমবার তারালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে দ্বিতীয়বার এবং ১৯৯৭ সালে তৃতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট আমলে তাঁকে জোরপূর্বক নির্বাচনে পরাজিত করা হয়।
সমাজসংস্কারক আব্দুল গফুরের স্মৃতিচারণ করে তাঁর ছোট ভাই অধ্যাপক আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী বলেন, জাফরপুর গ্রামকে আধুনিক গ্রামে রূপান্তরের জন্য আব্দুল গফুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জাফরপুরে একটি বড় খেলার মাঠ নির্মাণের পাশাপাশি মাঠসংলগ্ন জাফরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তারালী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় দাখিল মাদ্রাসা ও কাজী আলাউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর অবদান রয়েছে।
তাঁর প্রচেষ্টায় তারালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস কালিগঞ্জ সদর থেকে ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র জাফরপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বরেয়া মৌজায় দুঃস্থ মানুষের জন্য ১৩০টি পরিবারের আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করেন। এছাড়া জাফরপুর-ঝপঝপিয়া নদীর উত্তর পাশে প্রায় ১০০ ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করেন।
বরেয়া মৌজার বৈরাগীরচকে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে তৎকালীন দখলদারদের রোষানলে পড়ে তিনি একাধিকবার মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেন বলেও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রজীবনে তিনি জাসদের কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান মুকুল, কাজী মুজাহিদুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের আমির তারিকুজ্জামান তুষার, তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল আবছার, শোভনালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাওলানা আবুবকর, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, রতনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল রাজী টোকন, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল বারী সফু, যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান শিমুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

