নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের যে দুটি প্রধান মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে সীতাকুণ্ড এর বড়দারগা হাটেই অবস্থিত। এ মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র গুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বরাদ্দ এবং লোকবল সংকটের ফলে জরাজীর্ণ ও মৃত প্রায় হয়ে আছে। সরকার খামারগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছ। এই প্রকল্পে রয়েছে পুকুর পুনঃখনন, বায়োফ্লক পদ্ধতি চালুকরণ ,ল্যাব স্থাপন সহ জরাজীর্ণ অবকাঠামো মেরামত তথা নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা।
সম্প্রতি কেন্দ্র দুটির সাড়ে ৬ একর জায়গার নিরাপত্তা বেষ্টনী ও পটক নির্মাণ কাজে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন ভিত্তি তৈরি করে গাঁথুনি তোলার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। টাকা আত্মসাৎ করতে তোলা হচ্ছে নিম্ন মানের গাঁথুনি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ের এই কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে সচেতন মহলের কাছে তৈরী হয়েছে প্রশ্ন। দেখা দিয়েছে প্রবল সংশয়। একই সঙ্গে খামার ব্যবস্থাপনার স্টাফদের মাঝে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘গ্রীন ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অমান্য করে তড়িঘড়ি করে এ কাজের তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো নড়বড়ে ভিত্তির ওপরই গাঁথুনি তোলে বেষ্টনীর কাজ সম্পন্ন করছে।
এ ছাড়া ঢালাইয়ের কাজে নির্দিষ্ট অনুপাতের চেয়ে কম সিমেন্ট এবং কাঠামোগত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে কম রড ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রথম শ্রেণীর ইটের বদলে নিম্নমানের ইট, লোকাল বালু এবং খারাপ মানের খোয়া ব্যবহার সহ অনুমোদিত ডিজাইন পরিবর্তন এর অভিযোগ ওঠে ।
এদিকে ঠিকাদারি কাজে চুরি তথা দুর্বল ভিত্তির ফলে যেকোনো সময় নবনির্মিত দেয়াল ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে পথচারীরা। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খামার ব্যবস্থাপকের যোগসাজশ রয়েয়ে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, কাজ চলাকালীন ইঞ্জিনিয়ার বা তদারকি কর্মকর্তার সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা মৎস কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, “কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করতে খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে এবং অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

