মো. মিঠু মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সবুজপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কথিত মাদক ব্যবসায়ী প্লাবন মিয়া পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার, গাইবান্ধার সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ ও গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের টহল দলের যৌথ অভিযানে গত ২৮ আগস্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে কথিত মাদক ব্যবসায়ী প্লাবন মিয়ার বাড়িতে পুলিশ পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় প্লাবন মিয়ার স্ত্রী মোছা. সাথী বেগমও কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্লাবন মিয়ার বাড়ির উত্তরমুখী শয়নকক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিছানার তোষকের নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো দুটি নীল রঙের জিপার ব্যাগ থেকে ২০০ পিস, একটি সাদা প্লাস্টিকের কৌটা থেকে ১০০ পিস এবং একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের কৌটা থেকে ২৫ পিস—মোট ৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া খাটের তোষকের নিচ থেকে বিভিন্ন মূল্যমানের নোটে মাদক বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর একপর্যায়ে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানার সামনে থেকে মোছা. সাথী বেগমকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মো. মনির হোসেনের মেয়ে এবং প্লাবন মিয়ার স্ত্রী। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার সবুজপাড়া এলাকায়।
পুলিশের তথ্যমতে, অপর পলাতক আসামি মো. প্লাবন মিয়া (৪০), পিতা মো. আলম মিয়া, সবুজপাড়া, গাইবান্ধা সদর—একজন কথিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় ১৫টি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাথী বেগম ও পলাতক প্লাবন মিয়ার বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবা সংরক্ষণের অভিযোগে গাইবান্ধা সদর থানায় ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি নং-৬৩। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামি প্লাবন মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

