মোঃ আশরাফুল হক বাবু, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের তালা ও সিসি ক্যামেরা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রবেশ করে একটি ল্যাপটপ, ফ্যানসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নরদহি গ্রামে অবস্থিত ২৪ নম্বর মোল্লাপাচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিদ্যালয়ে এসে প্রবেশপথের গেটের তালা ও হ্যাজবল ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বাইরে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাটিও ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, একটি আলমারি ভেঙে মালামাল তছনছ করা হয়েছে।
এলাকায় মাদক ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে গয়হাটা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাহিদ হোসেন কবির বলেন, এলাকায় নেশাগ্রস্তদের উপদ্রব বেড়ে গেছে। বিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।”
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খন্দকার আঃ বাতেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে গেটের তালা, সিসি ক্যামেরা ও আলমারি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, “সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি গেটের তালা ও সিসি ক্যামেরা ভাঙা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখি আলমারি ভেঙে একটি ল্যাপটপ ও ফ্যান নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও ৫-৬ মাস আগে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছিল, তখন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এবারের ঘটনাটিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
নাগরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, “বিদ্যালয়ে চুরির বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে।”
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

