নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ৫ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি, রবিবার দিবাগত রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সোনাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। তার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানহানিকর কথা বলেছেন। এ কারণে তিনি শুধু জাহাঙ্গীরকে ‘ভালো হয়ে যাওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন। মারধরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন। বরং জাহাঙ্গীরকে তার বাবা ও ভগ্নিপতি মারধর করেছেন বলে শুনেছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, বর্তমান ইউপি সদস্য তাকে গুরুতর মারধর করেছেন এবং জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। কখন আমাকে মেরে ফেলা হবে, সেটা আমি নিজেও বলতে পারি না। তাই সালথা থানা প্রশাসনের কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আকুল আবেদন জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারি, সেই ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবাসে—এ বিষয়টি বর্তমান ইউপি সদস্যের জন্য অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই সদস্য আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমান সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ওই সদস্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন বলেও দাবি করেন জাহাঙ্গীর।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তদন্তের পর হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

