শফিকুল ইসলাম শফিক, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রতন কুমার তালুকদার। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত পিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রতন কুমার তালুকদার বলেন, পিতা-মাতাই সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সন্তান বড় হয়ে একদিন বাবা-মায়ের দেখভাল করবে—এটাই স্বাভাবিক। অথচ দিরাইয়ের মধুপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম নিজের দুই নিষ্পাপ সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, “এমন অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। যার মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ ও সন্তানের প্রতি মায়া-মমতা নেই, সে কখনো প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
এদিকে একই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন চরনারচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাজসেবক মো. আজিজুল হক। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, “এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। নিহত দুই শিশুর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
জানা গেছে, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত কামরুল বাড়ি থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। শনি ও রোববার সেখানে অবস্থানের পর বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার দুই শিশুসন্তান নিখোঁজ। পরে ছাতক, সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী দেখার হাওরের পৃথক দুটি স্থান থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

