সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনের বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সিংগাইর থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সিংগাইর থানায় যায়। সেখানে তারা পুলিশের সঙ্গে হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি পুলিশের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ঘটনার গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন, ট্রেজারার ড. সাবিনা শারমিন, প্রক্টর ড. আজম খান, সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফাহিম আসজাদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম, ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছামছুল আরিফসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রায় ১০০-১৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশার যাত্রী মো. কাউসারের সঙ্গে বাসের যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়।
এর কিছু সময় পর শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-স ১৪-০১৯৪ নম্বরের বাসটি সিংগাইরের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছালে কাউসারসহ কয়েকজন ব্যক্তি বাসটির ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় গ্যাসের পাইপ ব্যবহার করা হয় এবং বাসটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিম্বি আক্তার, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা আক্তারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বাসের চালক বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কাউসার বর্তমানে পলাতক। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফাহিম আসজাদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

