নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাদরাসায় চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী—এই দুটি পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কওমি বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রদান করে আইন প্রণয়ন করা হয়।
আইনের আওতায় ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এগুলো হলো—
- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ
- বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ
- আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ
- আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ
- তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ
- জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে কাম্য যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআনের সনদধারীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী এসব পদে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ক্বারী ও কিরাআত শিক্ষায় দক্ষ সনদধারীরা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ পাবেন।


