মো. মনিরুজ্জামান মনির, গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে কলিম উল্লাহ (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দীঘিরপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলিম উল্লাহ ওই গ্রামের তুতি মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কলিম উল্লাহর বড় মেয়ে রুনা বেগম (১৮) নিজ ঘরে একা থাকাকালে একই এলাকার সয়ফুল্লাহর ছেলে জুবের আহমদ (২৫) তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। রুনার চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে তার ভাইয়ের স্ত্রী রাজিয়া বেগম ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে জুবের আহমদকে আটক করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে বুধবার সন্ধ্যায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জুবের আহমদের বাবা সয়ফুল্লাহ (৬৫) পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে তার ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। শুক্রবার রাতে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এদিকে সালিশে বিচার না পেয়ে শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল এসআই নাঈমুলকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। পরে এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর জুবের আহমদ ও তার বাবা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সয়ফুল্লাহর দা’র কোপে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে যায়।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সয়ফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিন (২৮)কে আটক করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

