এ.এস.এম. হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চরপুক্ষিয়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিটি প্যারেডে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে বিতর্কিত ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের ‘সাংঘাতিক’ বলে আখ্যায়িত করছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
‘পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা’র ছুটি প্রসঙ্গে কথা বলার সময় ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “কিছু সাংবাদিক নামে সাংঘাতিক আছে, তারা এসে বিদ্যালয় বন্ধ বা তালা ঝুলানো নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে। কাল যে কিসের বন্ধ, সে খবর তাদের নেই।”
শিক্ষকের এমন বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করা কোনোভাবেই শিক্ষকের দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে না।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে হওয়ায় তিনি নিয়মিত পাঠদান ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে শিক্ষক মাহবুবুর রহমান নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দাবি করেন, তিনি মূলত ইউটিউবার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে কথাটি বলেছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন এবং কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের ‘সাংঘাতিক’ বলা নিয়ে বিতর্ক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে কোনো পেশা বা পেশাজীবী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
তাদের মতে, সাংবাদিকদের কাজের বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের সামনে একটি পেশাকে হেয় করে বক্তব্য দেওয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন থাকলে তার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ সত্য হলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। গণমাধ্যমের প্রশ্নকে শত্রুতা হিসেবে দেখার পরিবর্তে জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

