ঢাকারবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
  1. আইন আদালত
  2. আইনশৃঙ্খলা
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস ঐতিহ্য
  5. ইসলামী জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. রাজনীতি
  10. লাইফ স্টাইল
  11. শিক্ষাঙ্গন
  12. সারাদেশ
  13. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাগরপুরে ছেলের হাতে পিতা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ আশরাফুল হক বাবু, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ছেলের হামলায় আব্দুর রহিম ভূইয়া (৫৫) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। টাকা দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে মোস্তফা ভূইয়া (২২) ঘরে থাকা শীলপাথরের নোড়া দিয়ে বাবার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহিম ভূইয়ার মৃত্যু হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বেকড়া-আটগ্রাম ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে নিহতের নিজ বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১১টার দিকে আব্দুর রহিম ভূইয়া নিজ ঘরে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় তার ছেলে মোস্তফা ভূইয়া বাবার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে মোস্তফা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা শীলপাথরের নোড়া দিয়ে বাবার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে স্থানীয়রা জানান। গুরুতর আঘাতে আব্দুর রহিম ভূইয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, মোস্তফা মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি এলাকায় তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি তার স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানা গেছে।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মোস্তফা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং মাঝে-মধ্যেই অসংলগ্ন আচরণ করতেন।

নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম (৫০) ও বড় মেয়ে সালমা (৩০) জানান, মোস্তফা মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘটনার সময়ও তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না বলে তাদের দাবি। তারা বলেন, মোস্তফা কী করছেন তা বুঝে ওঠার আগেই শীলপাথরের নোড়া দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। পরিবারের দাবি, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়; বরং তার অসুস্থতার কারণে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “মোস্তফা মাদকাসক্ত। পাশাপাশি তার মস্তিষ্কেও সমস্যা ছিল বলে জানা যায়। টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।”

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে তার ছেলে মোস্তফা ভূইয়া শীলপাথরের নোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর মোস্তফা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।