মোঃ ইলিয়াছ খান, সালথা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর ও ফুকরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের দাবি, সালথা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন জয়নাল ও অ্যাডভোকেট লাভলুর সমর্থকদের সঙ্গে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা মো. আজিজুল হকের সমর্থকদের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
মাওলানা মো. আজিজুল হকের সমর্থকদের অভিযোগ, সংঘর্ষের আগে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা মো. আজিজুল হক বলেন, “আমি শান্তিতে বিশ্বাস করি। কোনো ধরনের ঝামেলা চাই না। আজ আমার তিন থেকে চারজন নির্দোষ কর্মীকে সাখাওয়াত হোসেন জয়নাল ও লাভলুর নির্দেশে মারধর করা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আমার সমর্থকেরা তাদের প্রতিহত করে।”
অন্যদিকে, সাখাওয়াত হোসেন জয়নাল ও অ্যাডভোকেট লাভলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

