মোঃ আশরাফুল হক বাবু, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোর ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া (৫০) নামে এক গৃহস্থ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চোরকে বাধা দিতে গিয়ে আরও দুজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছামিনুর মিয়াকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
নিহত মজনু মিয়া উপজেলার বারাপুষা গ্রামের মৃত বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ঢালাই মিস্ত্রির সহকারী এবং তিন সন্তানের জনক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে ছামিনুর মিয়া চুরির উদ্দেশ্যে মজনু মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় মজনুর ছোট মেয়ে জুলেখা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে চোরকে দেখতে পান। পরে তিনি ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার শুরু করলে ছামিনুর একটি খড়ের গাদার পেছনে লুকিয়ে পড়েন।
চিৎকার শুনে মজনু মিয়া এগিয়ে এসে ছামিনুরকে ধরে ফেলেন। এ সময় ছামিনুরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে মজনুর ঘাড় ও গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। মজনুকে রক্ষা করতে প্রতিবেশী আলতাফ ও নাজমুল এগিয়ে এলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করেন ছামিনুর।
পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলতাফ ও নাজমুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্টারি (ধমনি) কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ছামিনুর মিয়াকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

